বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি দমনই অগ্রাধিকার

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্নীতি দমন—দুটি বিষয়েই অগ্রাধিকারসহ দেশ গঠন নিয়ে নিজের ভাবনা ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তরুণদের সঙ্গে খোলামেলা এক আড্ডা ও মতবিনিময়ে তিনি তাঁর এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

গতকাল শনিবার দুপুরে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন তারেক রহমান। রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন পার্কে এই ব্যতিক্রমী আড্ডার আয়োজন করা হয়।

এ সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটটি গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ লাল-সবুজ বাসে উঠে র‌্যাডিসন হোটেলের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ দলের অন্য নেতারা তাঁকে স্বাগত জানান।
তিনি আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পোলো গ্রাউন্ড মাঠে ভাষণ দেবেন। তার আগে তিনি আজ সকাল সাড়ে ৯টায় র‌্যাডিসন হোটেলের মোহনা হলে সাড়ে তিন শ শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। 

রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সঙ্গে আড্ডায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রথম একটা বিষয় ইনশিউর করতে হবে—ল অ্যান্ড অর্ডার। অর্থাৎ মানুষ যেটা বলেছে, আপনি যেটা বলেছেন, সবাই যাতে রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারি—এটা ইনশিউর করতে হবে।

আর করাপশন আমাদের যেভাবেই হোক, এটাকে অ্যাড্রেস করতে হবে। আমাদের বিভিন্ন রকম দুর্নীতি আছে বিভিন্ন পর্যায়ে, আমাদের চেষ্টা করতে হবে—এই দুটি জিনিসকে যদি আমরা একটু ভালো করে অ্যাড্রেস করতে পারি, অন্য সমস্যাগুলো অনেকাংশে সমাধান হয়ে যাবে। এটা হচ্ছে আমার প্ল্যান।’ 

ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবেন, স্বামীহারা নারীরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘সিঙ্গল মাদার, যাঁরা বিভিন্ন রকম সমস্যার মধ্যে আছেন, স্বামী ছেড়ে গেছেন, আমার ধারণা, বাংলাদেশ গভর্নমেন্টের এই সোশ্যাল সেফটির আওতায় ১৩৮টি প্রজেক্ট চালু হয়েছে। বিভিন্ন মিনিস্ট্রি বা ডিপার্টমেন্টে সেগুলো চালু আছে।

এগুলো ঠিক নেই।’ 

তিনি বলেন, ‘রিসোর্স নষ্ট হচ্ছে। একজন তিনটি সাপোর্ট করছে, আরেকজন একটা পাচ্ছে না। আমরা এই জিনিসটাকে একটু অর্গানাইজ করতে চাইছি, থ্রু ফ্যামিলি। আমরা এটাকে ইউনিভার্সালির জন্য রেখেছি। যেমন—একজন কৃষকের স্ত্রীও পাবেন, একজন ভ্যানচালকের স্ত্রীও পাবেন, আরেকজন অফিশিয়াল—তাঁর ওয়াইফও পাবেন।’

অনলাইনে নানা নিপীড়নের বিষয়ে মিডিয়া কথা বলে না, কেউ কথা বলে না, আইনে কী আছে—এটাও জানা নেই, এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাগুলোর জবাব কী হতে পারে—এসব প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘সামাজিক মূল্যবোধের জিনিসগুলো আমাদের স্কুলে শেখাতে হবে এবং সে জন্যই কিন্তু আমরা প্রাইমারি এডুকেশনে জোর দিতে চাচ্ছি। জোরটাকে নট মেকিং স্কুল বিল্ডিং, নতুন নতুন তিনতলা, চার-পাঁচতলা স্কুল বিল্ডিং—এটা আমাদের লক্ষ্য নয়; বরং ওই বাজেট দিয়ে আমরা আমাদের প্রাইমারি টিচারদের মোর কোয়ালিফাই করতে চাচ্ছি, ট্রেনিং দিতে চাচ্ছি। যে ট্রেনিংয়ের মধ্যে একাডেমিক ট্রেনিং থাকবে, একই সঙ্গে সামাজিক ও ধর্মীয় যে মূল্যবোধগুলো আছে, এই জিনিসগুলো বাচ্চাদের শেখাব।’

বাচ্চারা মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে নেগেটিভ জিনিসগুলো দেখে, সে ক্ষেত্রে কী করা যায়—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “এখানে কাজ করার আছে। আমাদের পরিকল্পনাটা আপনাদের সামনে ব্রিফ করছি, দেখুন, আব্বার (জিয়াউর রহমান) সময় ‘নতুন কুঁড়ি’ নামের একটি অনুষ্ঠান ছিল। এটা অবশ্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার আবার চালু করেছে। আমাদের স্পোর্টস নিয়ে একটা পরিকল্পনা আছে।”

স্কুল পর্যায়ে সিলেবাসে ক্রীড়া, তৃতীয় ল্যাঙ্গুয়েজ, আবৃত্তি, কলা, গান, শিল্প-সংস্কৃতি বিষয় যুক্ত করার বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনি যখন একটা বাচ্চাকে এই জায়গায় ব্যস্ত করবেন, তখন কিন্তু ইন্টারনেটে ঢুকে ব্রাউজ করে কিছুটা হলেও তাকে সময় দিতে হবে। কারণ পাস-ফেলের ব্যাপার আছে। আমরা ইনশাআল্লাহ গভর্নমেন্ট ফর্ম করলে এডুকেশন মিনিস্ট্রি, কালচারাল মিনিস্ট্রি, সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি মিনিস্ট্রি, স্পোর্টস মিনিস্ট্রি—এই চারটি মন্ত্রণালয়কে একটি টিম করে কাজ করব।’

অনলাইনে হ্যারাসমেন্টের বিষয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান নিজের ভাবনা তুলে ধরে বলেন, ‘আরেকটা জিনিস যদি আমি বলতে পারি, মানে অনলাইনে যে হ্যারাসমেন্ট হয়, মানে মেয়েরা ছেলেরা সবাই হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়।’

পরে তারেক রহমান বলেন, ‘অনেক সময় আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি, যেমন—কিছুদিন আগের একটি ঘটনা, বাংলাদেশের কোনো একটি জেলায় একটি কুকুরকে গাছে বেঁধে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এটা কিন্তু খুব দুঃখজনক। একটা অবলা জীবকে বেঁধে রেখেছে, বেঁধে পেটাচ্ছে। এটা কেমন কথা!’

ফেসবুকের অফিস বাংলাদেশে আনা যায় কি না, সেটাও বিএনপির চিন্তায় আছে বলে জানান তারেক রহমান।

ঢাকার যানজট নিরসন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই সিটিগুলোকে ঘিরে স্যাটেলাইট টাউন বানাতে পারি, তাহলে কী হবে? ওখানে গড় খরচ কম হবে।’

ট্রাফিক স্পেশালাইজেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখন তো ফ্লাইওভার দেখছি বা মেট্রো রেল দেখছি। মেট্রো রেলটা তুলনামূলক কস্টলি, উনাদের বক্তব্য হচ্ছে, অনেক জায়গায় আছে, মালয়েশিয়ায় আছে, চায়নায় আছে, জাপানে আছে, সেটা হচ্ছে মনোরেল। মনোরেলটার যে সুবিধা, উনারা আমাকে যেটা বলেছেন, মনোরেলটাকে যেকোনো জায়গায় বসিয়ে দিতে পারবেন, আবার উঠিয়েও দিতে পারবেন। মনোরেলটার সুবিধা হলো মনোরেলটা ছোট ছোট বক্সের মতো দু-তিনটি বগি আপনি মোহাম্মদপুরের ভেতর থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে এসে মেট্রো রেলে ওঠেন, তারা সেখানে কানেক্ট করতে পারবে। ওইভাবে যদি আমরা ঢাকা শহরটা কানেক্ট করতে পারি, মনোরেলে খরচ কমে যাবে এবং ট্রাফিকব্যবস্থা ভালো হবে। যত সহজে বললাম ব্যাপারটা তত সহজ নয়। সময় লাগবে, কাজটি কঠিন। বাট নট ইম্পসিবল। আমরা চেষ্টা করলে অবশ্যই হবে।’

১০ বিজয়ী : তৌফিকুর রহমান, রাফায়েতুল আহমেদ রাবিত, শেখ রিফাত মাহমুদ, ফাতিমা আয়াত, মো. ইসরাফিল, শাজেদুর রহমান, শেখ মো. ইকরাতুল ইসলাম, যারিন নাজনীন, মো. রিফাত হাসান ও রমেসা আনজুম রোশমী।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com