বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপি বৈঠক

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কোনো ধরনের সংশয় দেখছে না। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকের এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় দেখছি না। কারও পক্ষ থেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো পরিকল্পনা থাকলে প্রতিহত করা হবে। আমরা মনে করি, এবারের নির্বাচন ২০০৮-এর মতো নয়, ৯১ সালের মতো হবে।’

এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে এনসিপি প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ তৈয়্যব।

ব্রিফিংয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা আশা করতে চাই, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। কিন্তু, গতকাল আপনারা দেখেছেন একটি ছাত্র সংগঠনের নেতারা ইসির সামনে কী ধরনের পরিবেশ তৈরি করে তাদের ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিক প্রার্থীদের পক্ষে রায় আনতে বাধ্য করেছে। এমনটি চলতে থাকলে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হবো। আমরা নির্বাচনের মাঠে থাকতে চাই। আমাদের যেন আন্দোলনের মাঠে না যেতে হয়।’

তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের চাপ, নির্বাচন কমিশনের সামনে মব সৃষ্টি এবং আগাম প্রভাব বিস্তারের কারণে কমিশন ক্রমেই পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। নির্বাচন কমিশনের সামনে চাপ সৃষ্টি করলে রায় পাওয়া যায় এমন বার্তা গেলে তা গণতন্ত্রের জন্য ভয়ংকর হবে। সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের, নির্বাচন কমিশনের নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা ঋণখেলাপি যে দলেরই হোক না কেন, আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। ঋণ পরিশোধ না করেও খেলাপিদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব বিষয়ে এনসিপি ফের নির্বাচন কমিশনের কাছে যাবে এবং প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হবে।

গণভোটের পক্ষে প্রচারণাকে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে কোনো দলীয় প্রতীক নেই, তবু নির্বাচন কমিশন তা বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনিভাবে পোস্টার, ফেস্টুন, শোকসভা ও ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চললেও কমিশন তা উপেক্ষা করছে।

এ সময় আসিফ মাহমুদ বলেন, বিতর্কিত নির্বাচনের মতো দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপিদের নির্বাচন করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করছেন।

তিনি বলেন, গতকাল (১৮ জানুয়ারি) এনসিপির দুজনকে শোকজ করা হয়েছে। সেটা ছিল গণভোটের প্রচারণা। এটা আচরণবিধি ভঙ্গ হয় কীভাবে? উল্টো অন্য দল প্রতীক ব্যানার দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে এরকম শোকজ দেওয়া হচ্ছে। সংস্কার নিয়ে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে আমাদের অবস্থান। একটি দলের চেয়ারম্যান দেশে আসার পর তার ছবি দিয়ে পোস্টারে ছেয়ে গেছে। ছবি নিয়ে প্রচারণা চালানোয় তাকে শোকজ করা উচিত। এনসিপির শোকজ তুলে নিতে হবে এবং জনগণের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এনসিপির এই নেতা আরও বলেন, ইলেকশন কমিশনের আচরণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হচ্ছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আস্থা কমছে। গণভোট ও নির্বাচন নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। এ পরিস্থিতি চললে দল ও জোট ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবে। তবে লক্ষ্য আন্দোলন নয়, সুষ্ঠু নির্বাচন।

এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া এনসিপি নেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, এ নির্বাচন দেশের ভাগ্য নির্ধারণের এবং দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন, তাই একে যে কোনো মূল্যে সুষ্ঠু হতে হবে।

প্রেস উইং আরও জানায়, বৈঠকে এনসিপি নেতারা বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে তাদের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগের কথা জানান। তারা নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে সরকারকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন সম্পর্কিত যে কোনো অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারকে জানাবেন। সরকার আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই লটারির মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে, যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে। বৈঠকে এনসিপি নেতৃবৃন্দ জানান, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট কেন প্রয়োজন এবং এর ফলে কী হবে—তা আমরা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা সব রাজনৈতিক দলকেও এ প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানাই।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com