বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনা হচ্ছে টিকা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ইউনিসেফের মাধ্যমে ৬১০ কোটি টাকার টিকা কিনছে সরকার। নিরবিচ্ছিন্নভাবে এ কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সব রুটিন ইপিআই টিকা কেনা হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরেও একই পদ্ধতিতে তিন মাসের জন্য এসব টিকা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়।
আজকের বৈঠকে উপস্থাপিত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশে ইপিআই কার্যক্রম শুরু থেকে ব্যবহৃত সব ভ্যাকসিন ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয় বা সংগ্রহ করা হয়। ইপিআই কার্যক্রমে ব্যবহৃত সব ভ্যাকসিন অত্যন্ত তাপ-সংবেদনশীল ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান নিয়ন্ত্রণ হওয়া আবশ্যক।

ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয় বা সংগ্রহ সব ভ্যাকসিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে এবং ক্রয় করা ভ্যাকসিনের ক্রয়মূল্য তুলনামূলকভাবে কম। এমন তথ্য তুলে ধরে মাঠ পর্যায়ে ইপিআই কার্যক্রম চলমান রাখতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সব রুটিন ইপিআই ভ্যাকসিন নিরবিচ্ছিন্ন-ভাবে সরবরাহের সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার নীতিগত অনুমোদন চাওয়া চলে তাতে অনুমোদন দেওয়া হয়।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রকল্পে এডিবি ঋণের ১৭৫ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অব্যয়িত রয়েছে। এখন থেকে ইপিআই টিকা কেনার জন্য ৪৯ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৬১০ কোটি ১৭ লাখ ২২ হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ইপিআইয়ের আওতায় ১০টি টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়, যেমন যক্ষ্মা (টিবি), ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি (পারটুসিস), ধনুষ্টংকার (টিটেনাস), হেপাটাইটিস বি, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি, নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া, পোলিও, হাম ও রুবেলা। ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে এক বছরের কম বয়সী সকল শিশুদের ছয়টি সংক্রামক রোগের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই ইপিআই কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পরবর্তীতে গত কয়েক বছরে ভ্যাকসিন শিডিউলে আরও বেশ কিছু নতুন টিকা যোগ করা হয়েছে, ২০০৩ সালে হেপাটাইটিস বি, ২০০৯ সালে এইচআইবি, ২০১২ সালে রুবেলা ২০১৫ সালে পিসিভি এবং আইপিভি, এমআর দ্বিতীয় ডোজ ২০১৫ সালে এবং ২০১৭ সালে এফআইপিভি উল্লেখযোগ্য।

ইউনিসেফের মাধ্যমে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনের (গ্যাভি) সহায়তায় ১৯৭৪ সালের মাঝামাঝি বিশ্বের প্রতিটি শিশুর জন্য টিকা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইপিআইয়ের কার্যক্রম। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বাংলাদেশ সরকারের সফল উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। কর্মসূচির সাফল্যের জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গ্যাভি) ২০১৯ সালে বাংলাদেশকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পদকেও ভূষিত করে। গত বছর থেকে বাংলাদেশকে ইপিআই টিকা কিনতে হচ্ছে। এর আগে এই টিকার অধিকাংশই বিনামূল্যে পাওয়া যেত।

ইপিআই সহায়িকায় বলা হয়েছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার আগে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখ শিশু ছয়টি রোগে মারা যেত। নিয়মিত টিকা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, হাম ও ধনুষ্টংকারের মতো রোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com