বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

খালেদা জিয়া ব্যবসায়ীদের কথা শুনতেন, সংলাপে বিশ্বাসী ছিলেন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপসহীন নেত্রী হয়ে উঠেছিলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া। দেশ ও  মানুষের কল্যাণে আজীবন সংগ্রামে বহুবার জেল-জুলুমের শিকার হয়েছিলেন, তবু প্রতিহিংসাপরায়ণ হননি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা করেছিলেন, সরকার পরিচালনায় এসে খালেদা জিয়া তা এগিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন এগিয়ে যায়। তিনি ছিলেন ব্যবসাবান্ধব এবং বেসরকারি খাতের প্রতি তাঁর সহযোগিতার মনোভাব ছিল। তিনি বেসরকারি খাতের সঙ্গে সংলাপে বিশ্বাসী ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক  সভা ও দোয়া মাহফিলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা এমন মত দেন। গতকাল সোমবার ১৭টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ সভার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মুক্তবাজার অর্থনীতির যে সূচনা করেছিলেন, খালেদা জিয়া সেই পতাকাই বয়ে নিয়ে গেছেন। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর অত্যন্ত অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও দেশবাসীর প্রতি দেওয়া বার্তা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) বলেছিলেন– ‘প্রতিশোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়; আসুন আমরা সবাই মিলে ঐক্যের মধ্য দিয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করি’। এই একটি বার্তাই পুরো বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বদলে দিয়েছিল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া অর্থনৈতিক অগ্রগতি হতে পারে না– এ কথা বিশ্বাস করতেন খালেদা জিয়া। তাই দেশের শাসনভার নিয়ে ব্যক্তি খাতের প্রসারে শহীদ জিয়ার মুক্তবাজার অর্থনীতির নীতিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে একক কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ায় তিনি বিশ্বাসী ছিলেন না।

বিএনপিএর স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বলেন, খালেদা জিয়া শুধু মুক্তবাজার অর্থনীতির সমর্থক ছিলেন না, বরং সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি অনন্য সমন্বয় সৃষ্টি করেছিলেন।

আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক জীবন গড়ে উঠেছিল দৃঢ় নেতৃত্ব, অদম্য সাহস ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি গভীর অঙ্গীকারের ভিত্তিতে। নব্বইয়ের দশক এবং চলতি শতকের শুরুতে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক উন্নয়নে এগিয়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করে। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে জিডিপির প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের আরও সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নীতিমালা গ্রহণ করেছিল তাঁর সরকার।

আইসিসিবির সহসভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যবসায়ীরা মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।

বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়া বিশ্বাস করতেন, দেশের উন্নয়নের জন্য উদ্যোক্তা, বিনিয়োগ ও কঠোর পরিশ্রম অপরিহার্য। তাই তিনি ব্যবসার সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ীদের কথা শুনতেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংলাপে বিশ্বাসী ছিলেন। ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির সভাপতি আব্দুল হাই সরকার বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) শুনতেন বেশি, বলতেন কম।

বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, খালেদা জিয়ার প্রথম মেয়াদে দেশের পোশাক খাতের ব্যাপক প্রসার হয়। বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সম্প্রসারণে খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়। ওষুধ শিল্প মালিকদের সংগঠন বিএপিআইয়ের সভাপতি আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বেসরকারি শিল্পের বিকাশে তিনি ছিলেন দূরদর্শী।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি. রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আব্দুর রহিম খান, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর সংগঠন বিএপিএলসির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প মালিকদের সংগঠন বিএসআইএর সভাপতি এম এ জব্বার, সিমেন্ট শিল্প মালিকদের সংগঠন বিসিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আমীরুল হক প্রমুখ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com