মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

তদন্ত চলছে হত্যার মোটিভকে গুরুত্ব দিয়ে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মোটিভ (কারণ বা উদ্দেশ্য) চিহ্নিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলছে তদন্ত। এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে কারা লাভবান হবে, কিলিং মিশনের মাস্টারমাইন্ডসহ পুরো নেটওয়ার্কে কারা জড়িত এবং অর্থ দিয়ে কারা কিভাবে সহায়তা করেছে সেসব তথ্য উদ্ধার করা তদন্তের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। যুগান্তরকে এমনটি জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

হাদিকে গুলি করার পর রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলাটি এখন হত্যা মামলা হিসাবে রেকর্ড হবে। এজন্য আদালতে আবেদন করা হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১০ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মামলার সার্বিক বিষয়ে তদন্ত চলমান আছে।

এদিকে হাদি হত্যার ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, ওসমান হাদি বাস্তবে একজন খুবই আদর্শবান দেশপ্রেমিক ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। দেশের স্বার্থবিরোধী যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রবল সোচ্চার ছিলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ছাড়াও প্রতিবেশী একটি দেশকে উদ্দেশ করে তিনি কঠোর সমালোচনা করতেন। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে সামনের সারিতে থেকে আন্দোলন এবং জুলাইপরবর্তী সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসাবে ওসমান হাদি ছিলেন প্রখর এক বিপ্লবী। টিভি টকশোতে দেওয়া ঝাঁজালো বক্তব্য এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি ছিলেন সব অপশক্তির বিরুদ্ধে অকুতোভয় সৈনিক। তদন্তের স্বার্থে ওসমান হাদির দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের ডিজিটাল কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অসংখ্য ভিডিও কনটেন্ট শুনলে সহজে বোঝা যায় কারা তার শত্রুতে পরিণত হয়েছিল। তারা বলেন, এভাবে প্রাথমিকভাবে হত্যার মোটিভ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ওসমান হাদি হত্যা চেষ্টা মামলায় গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের মিন্টো রোডের কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রধান ঘাতক ফয়সাল পেশাদার অপরাধী। তার অপরাধ জগতের বিচরণ সম্পর্কে পরিবার ও স্বজনরা ওয়াকিবহাল ছিল। কিন্তু ফয়সালকে ফেরাতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফয়সাল ফ্যাসিস্ট আমলে ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তার হাতে অঢেল টাকা-পয়সাও ছিল। এছাড়া নারী, মদ ও মাদক নিয়েই সে ব্যস্ত সময় পার করত। একে একে তিনটি বিয়েও করেছে। স্ত্রী-সন্তান রেখে অনেক সময় বিভিন্ন কটেজে সময় কাটাত।

রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সালের তৃতীয় স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া দাবি করেছেন, ২০২২ সালে ফয়সালের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় ও প্রেম হয় তার। এরপর হুট করেই তারা বিয়ে করে ফেলেন। সামিয়া বিয়ের পর জানতে পারেন, ফয়সালের আগের দুই স্ত্রী রয়েছে।

অস্ত্রের উৎস ও অর্থদাতাদের খুঁজছে তদন্তকারীরা : ওসমান হাদিকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ইতোমধ্যে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। নরসিংদীর একটি লেক থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ মোট তিনটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে এসব অস্ত্র তার কাছে কিভাবে এলো, বা সে নিজেই আগে থেকে এ ধরনের অবৈধ অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয় ফয়সাল।

সূত্র বলছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৮ অক্টোবর ঢাকার আদাবরের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটি এলাকায় ব্রিটিশ কলাম্বিয়া স্কুলের চতুর্থ তলায় অফিসে অস্ত্রের মুখে ১৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আদাবর থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলার প্রধান আসামি ছিল ফয়সাল করিম। পরে গত বছরের ৭ নভেম্বর আদাবর এলাকা থেকে ফয়সাল করিমকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তখন তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও পাঁচটি গুলি উদ্ধার করা হয়। ওই মামলায় ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট থেকে জামিন পায় ফয়সাল। জামিনের সময়সীমা বাড়াতে ১২ আগস্ট আবারও আবেদন করলে হাইকোর্ট নতুন করে তার এক বছরের জামিন মঞ্জুর করেন।

এদিকে হাদি হত্যা মামলার তদন্তে ফয়সালের স্বজনরা জানিয়েছে, আগে থেকেই ফয়সালের কাছে একাধিক অবৈধ অগ্নেয়াস্ত্র ছিল। ফয়সালের স্ত্রী দাবি করেন, বিয়ের রাতেই তিনি ফয়সালের কাছে অস্ত্র দেখতে পান।

১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডের ডিআর টাওয়ারের সামনে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে পেছন থেকে গুলি করে মোটরসাইকেলে থাকা সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার ২ দিন পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পল্টন মডেল থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদকে। মামলাটি এখন তদন্ত করছে ডিএমপির গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগ।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com