ধর্মীয় আচার, যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য, প্রার্থনা ও নানা আয়োজনে উদযাপিত হলো খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বড়দিন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ দিনটিতে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন সারা দেশের খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। জেরুজালেমের বেথলেহেমে দুই হাজারের বেশি সময় আগে এদিনে কুমারী মাতা মেরির কোলে জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্ট। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পাপ ও অন্যায় থেকে মুক্তি, মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করা, বিশ্ব জুড়ে মানবিক বন্ধনকে দৃঢ় করা এবং শোষণমুক্ত সমাজ গঠন করতে মানুষের রূপ ধরে মহামতি প্রভু যিশুর আগমন ঘটেছিল পৃথিবীতে। প্রভু যিশুর আগমনের এই বিশেষ দিনটি বড়দিন হিসেবে আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়ে আসছে শত শত বছর ধরে।
বড়দিন উপলক্ষে ঢাকায় তেজগাঁও ক্যাথলিক গির্জা (পবিত্র জপমালার গির্জা), রমনা ক্যাথেড্রল চার্চ, মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চসহ সারা দেশের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি চার্চ ও গির্জাগুলোকে ক্রিসমাস ট্রি, ফুল ও বেলুন দিয়ে সাজানো হয়। এদিন ভোর থেকে গির্জাগুলোতে ধর্মীয় আচার, বিশেষ প্রার্থনা ও কীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়। গির্জাগুলোতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় পৃথক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র জপমালা গির্জায় সকাল ৭টা ও ৯টায় এবং সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চে সকাল ৮টায় বড়দিনের প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। যিশুভক্তরা প্রার্থনা ও ধর্মীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শান্তি, ভালোবাসা ও মানবতার আহ্বান জানান। প্রার্থনায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। তারা মোমবাতি জ¦ালিয়ে যিশুখ্রিস্টের আদর্শ স্মরণ করেন।
খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীরা এ দিনটিতে সব ভেদাভেদ ভুলে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান পরিবারগুলোতে আপ্যায়নের জন্য কেক, পিঠাসহ মুখরোচক খাবারের আয়োজন করা হয়। এ উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল, হোটেল লা মেরিডিয়ানসহ তারকা হোটেলগুলোকে বর্নিল সাজে সাজানো হয়। সেখানে ঝুলিভর্তি উপহার নিয়ে শিশুদের আনন্দ দিতে হাজির হন সান্তাক্লজ।