মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর আমার অনুভূতিটা ছিল রোগমুক্তির। যেন একটা কঠিন রোগে পেয়েছিল, দুরারোগ্য ব্যাধি। রোগটা সমষ্টিগত, আবার ব্যক্তিগতও। আমরা সবাই ভুগছিলাম, একসঙ্গে এবং আলাদা।

বোধটা সামান্য নয়। সাতচল্লিশে আমরা আরো একবার স্বাধীন হই, তখন স্বাধীনতা এসেছিল স্টিমারে করে। সাতচল্লিশ সালের ১৫ আগস্ট দুপুরবেলা যে জাহাজটি এসে থামে গোয়ালন্দ থেকে পদ্মাপারের ভাগ্যকূলে, সেটিকে আমাদের মনে হয়েছিল স্বাধীনতার জাহাজ। নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের মস্ত একটা পতাকা পতপত করে উড়ছিল, সদম্ভে।
সারা জাহাজ সুসজ্জিত ছিল ছোট ছোট অসংখ্য পতাকায়। স্টিমারঘাটে, পন্টুনে বহু মানুষ দাঁড়িয়ে ওই জাহাজের প্রতীক্ষায়, যার মধ্যে আমিও ছিলাম। একটি কিশোর। আমার হাতেও নিশান।
সেই নিশান নাড়িয়েছি আমরা, জিন্দাবাদ দিয়েছি। জাহাজের রেলিংয়ে দাঁড়ানো যাত্রীরাও দিয়েছে, সমান উৎসাহে। স্বাধীনতার জাহাজ পরে আটকা পড়ে গেছে, চরায়। পাকিস্তান একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে আমাদের জন্য, যার লক্ষণ ও পীড়া স্পষ্ট হচ্ছিল, ক্রমাগত। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ।
বাঁচার প্রয়োজনে। 

একাত্তরে রোগমুক্তি যে আসন্ন, সেটা বোঝা যাচ্ছিল। আমরা জিতব কি জিতব না—এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নিশ্চয়ই, কখনো কখনো, কারো কারো মনে। অনেকের মতো আমিও নিশ্চিত ছিলাম জিতবই। প্রশ্ন ছিল, কবে, কিভাবে, কতটা যন্ত্রণার ভেতর দিয় সেটা ঘটবে। হয়তো সময় লাগবে, ক্ষতি হবে, কে থাকবে কে থাকবে না কে জানে, কিন্তু রোগটা থাকবে না। যাবেই চলে।

পঁচিশে মার্চের পর থেকে আমার নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা ছিল না। নানা জায়গায় থাকতাম। আমি তখন সবার সঙ্গে সংলগ্ন, সব পীড়িত মানুষের সঙ্গেই একত্র; কিন্তু আবার বিচ্ছিন্নও, রোগীরা যেমন হয়। আমার বিচ্ছিন্ন ভাসমানতার কারণ ছিল একটি নয়, দুটি। প্রথম কারণ আমি বাঙালি, দ্বিতীয় কারণ আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ওপর হানাদাররা বিশেষভাবে চটা ছিল, ছাত্রদের সঙ্গে শিক্ষকদের যোগাযোগের দরুন। আগের শাসকরা যেমনটা ভেবেছে, পাকিস্তানিরাও তার ব্যতিক্রম করেনি; ধরে নিয়েছে ছাত্রদের বিপথগামিতার পেছনে শিক্ষকদের উসকানি কাজ করেছে। সেটা আদৌ সত্য ছিল না। ছাত্ররা কারো উসকানির জন্য অপেক্ষা করেনি। নিজেরাই বের করে নিয়েছে নিজেদের পথ। প্রাণের দায়ে, বাঁচার প্রয়োজনে। হানাদাররা তাদের মোটা হিসাবে শিক্ষকদের মধ্যে যে কয়জনকে অপরাধী বলে চিহ্নিত করেছিল, তাঁদের মধ্যে আমিও একজন।

পঁচিশে মার্চের রাতেই সহকর্মীদের কয়েকজন শহীদ হয়েছেন। ছাত্র এবং কর্মচারীও। সেসব খবর ২৬ তারিখের ভোরে একেকটি আতঙ্কের মতো এসে পৌঁছাচ্ছিল। পরের দিন সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সপরিবারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা ছেড়ে বের হয়ে পড়ি। সেই যে বাসা ছেড়েছি, আর ফেরা হয়নি। দু-একবার যে এসেছি, সে শুধু জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য। ফেরারির মতো।

না ফেরার কারণ ছিল। সাধারণ কারণের অতিরিক্ত ওই বিশেষ কারণ। হানাদাররা যাঁদের খুঁজছে, তাঁদের মধ্যে আমার নাম যে রয়েছে, সেটা জানা হয়ে গিয়েছিল এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই। আমার এক নিকটাত্মীয় ছিলেন পুলিশে, একেবারে গোয়েন্দা বিভাগেই। সামরিক দপ্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ওই বিভাগকে বলা হয়েছিল, সেই তালিকায় আমার নাম নিচে নয়, ওপরের দিকেই ছিল, তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন। এক বিকেলে অফিস সময়ের বাইরে তিনি ঝুঁকি নিয়ে হলেও আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর দপ্তরে, তালিকাটি দেখাতে। চক্ষু ও কর্ণের মধ্যে আর কোনো দূরত্ব রইল না, আমি দেখলাম; এবং বুঝলাম যে এর পরে আমার পক্ষে কোনো একটি ঠিকানায় বেশিদিন থাকা নিরাপদ হবে না। তা-ই করেছি আমি। যাঁদের আবাসে থেকেছি, তাঁরাও যে সবাই খুশি হয়েছেন আমাকে পেয়ে, তেমনটা বলা যাবে না। রোগ মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে, হাসপাতালের রোগীরা যে পরস্পরকে সাহায্য করতে পারে, তা নয়। আমি যে একটি নয়, দুটি রোগে আক্রান্ত, সেটা তাঁরা সঠিকভাবে না জানলেও আশঙ্কা তো করতেন। সেপ্টেম্বরে মার্শাল ল অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও গভর্নর টিক্কা খানের স্বাক্ষর করা চিঠি এসেছিল কয়েকজন শিক্ষকের নামে। ভবিষ্যতের জন্য সাবধান করে দিয়ে। প্রাপকদের মধ্যে নিজেকে দেখে আমি বিস্মিত হইনি, তালিকাটি তো আমার জানাই ছিল। আগেই।

আমার বন্ধু ও সহকর্মী জয়নুল আবেদীন চলে গেলেন সীমান্ত পার হয়ে। আমি যাব ঠিক করেছিলাম, কিন্তু শেষ পর্যন্ত যাওয়া হলো না, নানা টানাপোড়েনে। আমাদের ধারণা হয়েছিল যে, যুদ্ধটা বেশ কিছু দিন চলবে, তাই দেশের ভেতরেও সুযোগ থাকবে কাজ করার।

ডিসেম্বর মাসের ১২ তারিখে আমরা ঠিক করেছি, এবার ঢাকা ছেড়ে চলে যাব, লম্বা সময়ের জন্য। ব্যাংকে যার যা গচ্ছিত ছিল, আমরা তুলে নিয়েছি। কয়েকটি রিকশা নিয়ে রওনা দিয়েছি সদরঘাটের দিকে। গ্রামে চলে যাব। এবারও বোধ হয় স্বাধীনতাকে গ্রামে দাঁড়িয়েই দেখতে পাব, ২৩-২৪ বছর আগে একদিন যেমন দেখা পেয়েছিলাম। কথাটা তখন ভাবিনি, কিন্তু ঘটনা ওই রকমই দাঁড়াত, গ্রামে যদি যাওয়া হতো। যাওয়া হয়নি। সদরঘাট থেকে শহরে নিকটতম আত্মীয়বাড়ি কোনটা তার খোঁজ করতে গিয়ে দেখা গেল, সেটি ওয়ারীতে। সেই বাসায়ই গিয়ে উঠলাম আমরা, বাকিরা। রাতের জন্য। কিন্তু সেই রাত বড় দীর্ঘ হয়েছিল। রাতেই জানা গেল, কারফিউ জারি করেছে একটানা। নাকি তারা প্রস্তুত হচ্ছে যাওয়ার আগে শেষ কামড়টি দিয়ে যাওয়ার জন্য। সেটি ভয়ংকরই হওয়ার কথা। বিদেশি রেডিও আশা দিল, কিন্তু ভরসা দিতে পারল না। ১৪-১৫-তে আমরা আটকা পড়ে আছি। যাঁদের বাসায় আছি, তাঁদের অসুবিধা হচ্ছে কি না, বাসায় খাবারদাবার কতটা আছে বা নেই, সে নিয়ে কেউ ভাবছে না। সবাই একই উদ্বেগে উদ্বিগ্ন—বাঁচা যাবে কি যাবে না। দূরে মাইক্রোফোন দিয়ে কারা যেন কী বলে যাচ্ছে। অবাঙালি গলা। স্লোগানও শোনা যাচ্ছে মনে হয়, ওরা কি তাহলে মিছিল করে বের হচ্ছে, বাঙালি নিধনে? থেকে থেকে গোলাগুলির আওয়াজ আসছে। কোন দিক থেকে বলা মুশকিল। শোনা গেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাবে। একজন শুনে এসেছে, পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দেবে। রাস্তায় রাস্তায় কি যুদ্ধ হবে, সামনাসামনি, মুখোমুখি, হাতাহাতি? কে জানে।

১৬ ডিসেম্বরের সকাল থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, পাকিস্তানিরা তেমন কিছুই করতে পারবে না, বরং তাদের নিজেদের আত্মসমর্পণই আসন্ন। ভারতীয় বেতারে বিভিন্ন ভাষায় পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হচ্ছে। করলে কী কী সুবিধা তা জানাচ্ছে। না করলে কী কী ঘটবে তা-ও জানাতে বাকি রাখছে না। জলে স্থলে অন্তরীক্ষে—সব দিক দিয়েই পাকিস্তানিরা যে অবরুদ্ধ, তারা বলছে সে কথা। বিদেশি বেতারও সমর্থন করছে সংবাদ। ঘণ্টায় ঘণ্টায় নতুন নতুন খবর পাওয়া যাচ্ছে।

একসময় শোনা গেল সেই বহু প্রতীক্ষিত সংবাদ। হানাদাররা আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়েছে। জানা গেল, রেসকোর্সে ঘটবে সেই ঐতিহাসিক ঘটনা। খবর শুনে চারদিক থেকে মানুষ বেরিয়ে পড়েছে। যেন এইমাত্র রাত কাটাল, সকাল হয়েছে। আমরা কেউ বের হইনি। কিন্তু মনে হয়েছে, আমরা আর আগের আমরা নেই। স্বাভাবিক হয়েছি, প্রশস্ত প্রসারিত দীর্ঘ হয়ে উঠেছি, তাই বলে জায়গার কোনো অভাব নেই, সমস্ত দেশই তখন আমাদের। এখন অনেক কিছু ঘটবে। অনেক কিছু পাওয়া যাবে। এখন কোনো অস্থিরতা নেই। বড় কথা, অসুখটা সেরে গেছে। আমরা নিরাময় হয়েছি।

বিকেলে বের হয়েছিলাম। ওই বাসারই এক তরুণের সঙ্গে। সে আমার বন্ধুস্থানীয়। ওই কদিনের আটককালে বন্ধুত্ব আরো গাঢ় হয়েছে। রেললাইন পার হয়ে হাটখোলা রোড ধরে এগিয়েছি। দেখলাম লাশ পড়ে রয়েছে এখানে-সেখানে। সৎকারের লোক নেই, তাকানোরও সময় নেই কারো। এখন যেটি বঙ্গভবন, তখন তা ছিল গভর্নর হাউস, সেই ভবনের কাছে আচমকা দেখি এক তরুণ প্রায় লাফ দিয়ে নামছে আমাকে দেখে। চিৎকার করে বলছে, আপনি বেঁচে আছেন? তার পরেই ভয়ংকর খবরটি দিল সেই তরুণ। বলল, অনেকেই নেই। ১৪ তারিখে ধরে নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়পাড়ায় গিয়েছিল ওই তরুণ, তার প্রিয় অধ্যাপকের খোঁজে, ফুল নিয়ে গিয়েছিল, বিজয়ের শুভেচ্ছা জানাবে বলে। ফিরে যাচ্ছে অশ্রুসজল চোখে। তার শিক্ষকটি নেই। ১৪ তারিখে কাজের ভেতরে তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে আলবদর। একা তাঁকে নয়, আরো অনেককে। কয়জনকে কে জানে। বিশ্ববিদ্যালয়পাড়ায় তখন আহাজারি। আমাকে দেখা যায়নি, কারণ আমি ছিলাম না সেখানে, আমার কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা ছিল না ওই ৯ মাস। না দেখে কারো কারো ধারণা হয়েছে, আমিও হয়তো বেঁচে নেই, আমাকেও হয়তো বা ধরে নিয়ে গেছে। যাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের একটি তালিকা শুনিয়েছিল ওই তরুণ। পথের পাশে দাঁড়িয়ে। শুনে বিজয়ের আনন্দ যেটুকু ছিল, নিঃশেষ হয়ে গেল। শুধু বেঁচে যে আছি—এই স্বার্থপর চিন্তাটা ছাড়া অন্য কোনো অনুভূতি সেই মুহূর্তে ছিল কি না আমার মনে পড়ে না। তবে স্মরণ করতে পারি যে মনে হয়েছিল, একটু আগে যে কয়েকটি লাশ দেখে এসেছি পথে, তারা জীবন্ত হয়ে উঠেছে, আমার অত্যন্ত আপনজন হয়ে উঠেছে তারা।

বিজয় তো ঘটেছিল সেদিন। অত বড় পরাক্রমশালী, সুসজ্জিত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছে, চারদিকে আনন্দের ধ্বনি, ছুটছে গুলি, বন্ধু জড়িয়ে ধরছে বন্ধুকে। মস্ত বড় সত্য সেটা। কিন্তু ইতিহাসের আরেক ধারাও তো উপস্থিত ছিল। ঘাতকদের হাতে প্রাণ দিয়েছে বহুজন। সেই ঘাতকরা অন্য কেউ নয়, এই বাংলাদেশেরই সন্তান। এবং বিজয় শেষ হতে না হতেই শুরু হয়েছে লুণ্ঠন। সঙ্গে সঙ্গেই। এক অন্ধকার মিশে গেছে আরেক অন্ধকারের সঙ্গে। বিষণ্ন পায়ে ফিরে এসেছি ঘরে। নানা রকম খবর চারদিকে। পাড়ার ছেলেরা যুদ্ধে গেছিল, তাদের কেউ কেউ ফিরে এসেছে। তারা গল্প বলছে নানা রকম। বীরত্বের, কৌতুকের, কোনোমতে বেঁচে যাওয়ার। একটু পরে দেখি, মিছিল বের হয়েছে একটা। ঠিকই, সেই রাজাকাররাই। সত্যি সত্যি। জিন্দাবাদ দিচ্ছে। শেখ মুজিবের ছবি সংগ্রহ করেছে এরই মধ্যে। এমনকি ইন্দিরা গান্ধীরও। গলায় তাদের জোরের অভাব নেই।

১৬ তারিখে চারদিকে গুলির শব্দ। থামছে না। সবটাই আনন্দের, উল্লাসের, বিজয়ের। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল, রোগ কেটে যাওয়া মানেই স্বাস্থ্য ফিরে আসা নয়। স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্য সময় লাগবে। নেতৃত্বও প্রয়োজন হবে। সেই নেতৃত্ব পাওয়া যাবে কি, যে নেতৃত্ব পারবে এতসব বিশৃঙ্খলা ও পরস্পরবিরোধী শক্তিকে একত্র করতে, মানুষ ও সম্পদের যে ক্ষতি এরই মধ্যে হয়ে গেছে, তা পূরণের ব্যবস্থা নিতে?

ওই প্রশ্নের জবাব অবশ্য পাওয়া গেছে। গত ২৭ বছর ধরেই।

লেখক : ইমেরিটাস অধ্যাপক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com