মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে আপিল

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে
তত্ত্বাবধায়ক সরকার

গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে এক যুগ আগে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানে যে পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল, তার কিছু অংশ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন চার রিটকারী।

পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল চেয়ে গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলটি করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা (রিট আবেদনকারীরা) পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটাই বাতিল চেয়েছিলাম।কিন্তু হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল না করে কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করেছিলেন। ফলে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছি। যথাসময়েই শুনানি হবে।’২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে ‘পঞ্চদশ সংশোধনী আইন’ পাস হয় এবং রাষ্ট্রপতি ওই বছরের ৩ জুলাই তাতে অনুমোদন দেন।ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। এ ছাড়া অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করাকে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং এই অপরাধের শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হয়েছিল পঞ্চদশ সংশোধনীতে।

রায়ে যা বলা হয়েছে : রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের ৫৮ক অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে তা বাতিল ঘোষণা করা হলো। রায়ে আরো বলা হয়, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবে ধারা দুটি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে।গণভোটের বিধান নিয়ে রায়ে বলা হয়, ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই বিধান বাদ দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রকাশের ইচ্ছাকে অস্বীকার করা হয়েছে। এ ছাড়া জনমত বা জন-আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৮, ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ অসংশোধনযোগ্য ঘোষণা করা হয়, যা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিরোধী এবং অসংগতিপূর্ণ। তাই পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১-এর ৪৭ ধারার মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাতিল করাকে বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে যুক্ত করা গণভোটের বিধান পুনরুদ্ধার হলো।

পঞ্চদশ সংশোধনীর ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়ে রায়ে বলা হয়েছে, সংবিধান দেশের সর্বোচ্চ আইন। জনগণের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা এবং চিন্তার স্বাধীনতা, অভিব্যক্তিকে সর্বোচ্চ নিশ্চয়তা দেয় সংবিধান। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে ৭ক ও ৭খ উপ-অনুচ্ছেদ যুক্ত করে সেই নিশ্চয়তা খর্ব করা হয়েছে, যা ৭ অনুচ্ছেদের বিধানের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং চরম সংবিধানবিরোধী। সে কারণে ৭ অনুচ্ছেদ থেকে ৭ক ও ৭খ উপ-অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হলো।

হাইকোর্টের ক্ষমতা সংক্রান্ত ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিলের বিষয়ে আদালত রায়ে বলেন, সংবিধান নিয়ে নির্বাহী বিভাগ, এমনকি আইনসভার অপ্রীতিকর পদক্ষেপের বিচারিক পর্যালোচনার সম্পূর্ণ ক্ষমতা হাইকোর্টের রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে স্পর্শ করে এমন সংশোধন বাতিল ঘোষণা করার ক্ষমতাও হাইকোর্টের রয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের অভিভাবক।

রায়ে আদালত বলেছেন, আইনসভা (সংসদ) পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদে ২ উপ-অনুচ্ছেদ যুক্ত করে হাইকোর্ট বিভাগের কথিত ক্ষমতা অধস্তন আদালত দ্বারা প্রয়োগ করার অনুমতি দিয়েছিল। সুতরাং এটি সংবিধানের ৪৪(১) ও ১০২(১) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। ফলে ৪৪(২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হলো।

পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধান বাদ দিয়েছিল। এই গণভোটের বিধান বাদ দেওয়াকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে। এর ফলে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনঃস্থাপিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রায়ে।

যে যুক্তিতে আপিল : কী কী যুক্তিতে আপিল করা হয়েছে জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশাধনীর অংশবিশেষ বাতিল করায় একাধিক সমস্যা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রধানতম বিষয় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংক্রান্ত ধারাগুলো পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা দিয়ে বাতিল করার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীর ৫৮ক ও ৫৮গ ধারা পুনঃস্থাপিত হয়েছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট অনেকগুলো ধারা রয়ে গেছে; যেমন—সংবিধানের ৬১ অনুচ্ছেদ। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কমান্ড (সর্বাধিনায়কতা) রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকা অবস্থায় সুপ্রিম কমান্ড কার কাছে থাকবে, সে ব্যাপারে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিধান করা হয়েছিল। হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ে এ বিষয়টি পুনর্বহাল করেননি।’

আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা অবসরের পর রাষ্ট্রের অন্য কোনো লাভজনক পদে বসতে পারবেন না। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা হলে তাঁদের ব্যাপারে ৯৯ অনুচ্ছেদে একটি ‘ব্যতিক্রম’ যুক্ত করা হয়েছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাদ দেওয়া হলেও পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তা ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টাদের পারিশ্রমিক কী হবে, সে বিষয়ে ১৪৭ অনুচ্ছেদে বলা ছিল। প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা বলতে কাদের বোঝাবে, সে বিষয়ে ১৫২ অনুচ্ছেদে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। আর সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টাদের শপথের ফরম ছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই সবগুলো ধারা বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু হাইকোর্ট রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ বাতিল করে ত্রয়োদশ সংশোধনীর ৫৮ক ও ২ক পরিচ্ছেদ পুনঃস্থাপন করলেও প্রাসঙ্গিক অনেকগুলো ধারা পুনঃস্থাপন বা পুনরুজ্জীবিত করেননি। কাজেই হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে পুনঃস্থাপিত হয়নি। হাইকোর্টের দায়িত্ব ছিল সম্পূর্ণভাবে তা পুনরুজ্জীবিত করার। সেটি হয়নি বলে আপিল করা হয়েছে।’

এ ছাড়া সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করার প্রক্রিয়ায় গুরুতর আইনি ব্যত্যয় ঘটিয়ে পাস করা হয়েছে জানিয়ে আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, সংবিধানের সপ্তম তফসিলের ঘোষণাপত্র, মূলনীতি সংক্রান্ত ৮ অনুচ্ছেদ এবং সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা সংক্রান্ত ১৪২ ধারা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোট করার বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। তা ছাড়া কী কী সংশোধনী আনা হয়েছে, তার বর্ণনাসহ একটি বিস্তৃত শিরোনাম থাকার কথা থাকলেও পঞ্চদশ সংশোধনীতে তা নেই। এই যুক্তিটিও আপিলে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান আপিলকারীদের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com