আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে কি না, এ নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা প্রশ্ন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মধ্যে এ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী সব বাহিনী প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে পুলিশ বাহিনী নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে।সেনাবাহিনী, আনসার, বিজিবিও নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অবস্থায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। এক পুলিশ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই যে এত শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, সেটি তো আমরা কিছু জানি না। যারা নির্বাচন আয়োজন করবে এবং যারা নিরাপত্তা দেবে, তারা সবাই জোরেশোরে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরো বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকতে চাইছেন এমন অনেক গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু তিনি কেন আরো বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকতে চাইছেন এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। প্রভাবশালী এক পুলিশ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ধারণা, কোনো একটি মহল নির্বাচন বানচালের জন্য এসব কথা ছড়িয়ে একটি গ্রাউন্ড তৈরি করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের কাছে পরিষ্কার, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কেউ বসে নেই। যদি কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে নির্বাচন আটকে যাবে—দেশে সে রকম পরিস্থিতি নেই। একটি মহল গুজব ছড়ানোতে তৎপর।’ ওই কর্মকর্তা জানান, তাঁর জানামতে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। নির্বাচন বানচাল করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কোনো লক্ষণ তাঁরা দেখছেন না।
তবে অনেকের মতে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, সামগ্রিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা জনমনে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে। এই বিষয়গুলো নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ছড়ানো এবং সাইবার হামলার ঝুঁকিও একটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। নির্বাচনের সময় ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হতে পারে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে বিতর্কিত করতে পারে।