মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে আদেশে জুলাই সনদের মিল রাখার দাবি জামায়াতের আইনজীবীরা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে
আপিল শুনানিতে জামায়াতের আইনজীবীরা
পূর্বপরিকল্পিত নকশার আলোকে  নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাদ দেওয়া হয়েছিল। তখনকার (২০১১ সালে) সংসদীয় কমিটি এই ব্যবস্থা বাদ দিতে চায়নি। এক ব্যক্তির ইচ্ছায় এই ব্যবস্থা বাদ দিয়ে একটি স্বৈরতান্ত্রিক বা একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্ম দেওয়া হয়েছিল। এই একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি একটি বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

এর আগে গত ২১ ও ২২ অক্টোবর দুই দিন শুনানি করেন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ আপিলকারীর আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।ইন্টারভেনর (আদালতকে সহায়তাকারী) হিসেবে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের পক্ষে রিভিউ করেছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।গতকাল আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিকী ও মোহাম্মদ শিশির মনির। সর্বোচ্চ আদালতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পক্ষে কী শুনানি করেছেন, জানতে চাইলে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ফর্মুলা। এই ব্যবস্থার অধীনেই বাংলাদেশে একটি ফ্রি ফেয়ার (অবাধ সুষ্ঠু), ইমপার্শিয়াল (নিরপেক্ষ) এবং ক্রেডিবল (গ্রহণযোগ্য) নির্বাচন অনুষ্ঠান হওয়া সম্ভব।

নইলে পুরো সংস্কার অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ জন্যই আজ আমরা সাবমিশন রেখেছি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল প্রক্রিয়াটা ছিল অবৈধ।’শুনানিতে আর কী কী পয়েন্ট তুলে ধরেছেন জানতে চাইলে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘আমরা মূল কথা বলতে চেয়েছি এটাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বাতিল করে যে রায়, এটিকে পুনর্বিবেচনা করা হোক। এটাকে (তত্ত্বাবধায়কব্যবস্থা বাতিলের রায়) বাতিল করা হোক। বাংলাদেশ যে সংস্কার স্কিমে ঢুকেছে, ভবিষ্যতে এই স্কিম বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে একটা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। এখানে ব্যক্তির চেয়েও মানুষের মর্যাদা বেশি থাকবে। সব নাগরিক স্বাধীনভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন, যদি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা চালু হয়। আপিল মঞ্জুর না হলে আবার সেই আগের মতোই নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে ঠেলে নিয়ে যাওয়া হবে।১৪ বছর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে রায় দিয়েছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। পরে এ রায় নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। খায়রুল হকের বিরুদ্ধে রায় পরিবর্তনের অভিযোগ ওঠে। জুলাই অভ্যুত্থানে গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৪ বছর আগের বিতর্কিত রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে গত বছর ২৭ আগস্ট আবেদন করেন ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি। পরে ১৭ অক্টোবর আবেদন করেন বিএনপি মহাসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পাঁচ দিন পর ২৩ অক্টোবর আরেকটি আবেদন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ ছাড়া আরেকটি আবেদন করেন নওগাঁর রানীনগরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন। এরপর আরো দুটি আবেদন করা হয়।

রিভিউ আবেদনে আপিল করার অনুমতি দিয়ে আপিল শুনানি হবে, নাকি রিভিউ আবেদনেই চূড়ান্ত শুনানি হবে, এ নিয়ে দুই দিন শুনানির পর গত ২৭ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত জানান। ছয়টি আবেদনের মধ্যে একটি আবেদনে আপিলের অনুমতি দিয়ে চারটি আবেদন এর সঙ্গে যুক্ত করে দেন আপিল বিভাগ। অন্য আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ (আউট অব লিস্ট) দিয়ে শুনানির জন্য রেখেছিলেন সর্বোচ্চ আদালত। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২১ আগস্ট প্রথম আপিলে শুনানি শুরু হয়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com