মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার বিচারকাজ শেষ,

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে
মানবতাবিরোধী অপরাধ
  • রায় কবে, ১৩ নভেম্বর জানাবেন ট্রাইব্যুনাল
  • শেখ হাসিনা একটা গৃহযুদ্ধ লাগানোর চেষ্টা করেছেন : চিফ প্রসিকিউটর
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারকাজ শেষ। রায় কবে ঘোষণা করা হবে, তা জানাতে আগামী ১৩ নভেম্বর তারিখ রাখা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার বিচারকাজ শেষ হলে চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রেখে এই তারিখ দেন। ট্রাইব্যুনাল বলেন, আগামী ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হবে।তবে সেটা (রায় ঘোষণা) হবে খুব তাড়াতাড়ি। ট্রাইব্যুনালের দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

গত বছর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এরপর চলতি বছরের ২৫ মে থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধে যেসব মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তার মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা আটটি।এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। বিচারাধীন পাঁচটি মামলার মধ্যে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে এই মামলার বিচারকাজই শেষ হলো সবার আগে। রক্তক্ষয়ী লাগাতার আন্দোলনে গত বছর ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনা সরকারের। এরপর নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে পতিত সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে দাবি করে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা দেয়, এই অপরাধের বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা হবে। ঘোষণা অনুযায়ী পরে ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে গত বছর ১৭ অক্টোবর দুই মামলার বিষয়ে প্রথম শুনানি হয়। সেদিন প্রসিকিউশনের আবেদনে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

তার আগে গত বছর ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করা হয়।অন্য দুই আসামি হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয় গত বছর ১৪ অক্টোবর। ছয় মাস ২৮ দিনে তদন্ত শেষ করে গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। গত ১ জুন প্রসিকিউশন ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ দাখিল করলে তা আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে আত্মসমর্পণ করতে ১৬ জুন সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরদিন সেই বিজ্ঞপ্তি দুটি জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশ করা হয়। আত্মসমর্পণ না করায় তাঁদের পলাতক দেখিয়ে গত ১০ জুলাই মামলার অভিযোগ করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী মো. আমির হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই দিন আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন এ মামলার রাজসাক্ষী হতে ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন করেন। পরে তাঁর আবেদন মঞ্জুর করা হয়। গত ৩ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটরের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিচারকাজ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল। দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সাক্ষ্য দেন এ মামলায়। রাজসাক্ষী হিসেবে গত ২ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য দেন আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। গত ৮ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় যুক্তিতর্ক। টানা পাঁচ দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গত ১৬ অক্টোবর প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শেষ হলে ২০ অক্টোবর থেকে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী টানা তিন দিন শেখ হাসিনা-কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার পাল্টা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে দুই পক্ষই। তার আগে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ট্রাইব্যুনালে সমাপনী বক্তব্য দেন।

আসামিদের বিচার না হলে রাষ্ট্র অবিচারের শিকার হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জুলাই গণ-অভুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ব্যাপকতা তুলে ধরে বলেন, ‘কারা, কিভাবে অপরাধ করেছেন, তা প্রসিকিউশন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাব্যুনালের সামনে তুলে ধরেছে। আসামিরা যে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন, পদ্ধতিগতভাবে ব্যাপক মাত্রায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন, এই বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।’

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাননি, যুক্তিতর্কে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর এমন দাবির জবাব দিতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এ মামলার অভিযুক্তরা মানবতাবিরোধী অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। একজন প্রধানমন্ত্রী, একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—উনারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেটা জোর করে হোক, নির্বাচিত হয়ে হোক, যেভাবেই হোক। তাহলে কি এমন ঘটনা ঘটল যে উনাকে পালিয়ে যেতে হলো? কেন তিনি বা তাঁরা দেশ ছেড়ে গেলেন? উনারা খুন করেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। এই খুনের পর যখন জনগণ জেগে উঠেছে, এই খুনের পর যখন গোটা জাতি জেগে উঠেছে, তখন এই মামলার অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছেন। এই পালানোকে অর্ডিনারি পালানো হিসেবে দেখলে হবে না। শুধু তাই না, উনারা এই বিচার সম্পর্কে জানেন, বিচার পর্যবেক্ষণ করছেন। এই বিচারের বিষয়ে কথা বলেছেন। এই বিচারকে প্রতিহত করার জন্য বিভিন্ন রকম ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছেন। ফলে এটা বলার সুযোগ নেই অভিযুক্তরা নিরপরাধ।’

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘একটা দেশে ৩৬ দিনে এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গুত্ব বরণ করানো হয়েছে শুধুমাত্র ক্ষমতাকে প্রলম্বিত করার জন্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে। পালিয়ে গিয়েও তাঁরা ক্ষান্ত হননি। বিচারকে ব্যাহত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। আমরা অভিযুক্তদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সাক্ষ্য-প্রমাণ আপনাদের সামনে এসেছে, এসব সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্বের যেকোনো দেশের যেকোনো আদালতে উপস্থাপন করলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই আসামিদের সাজা দেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকবে না আদালতের সামনে। তার পরও এই বিচার যদি আমরা করতে না পারি, তাহলে আমরা বাংলাদেশে মানুষ হিসেবে ভীরু কাপুরুষের উপমা হয়ে রয়ে যাব।’

আসামিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যাঁরা সমালোচনা করছেন, তাঁদের সমালোচনা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যাঁরা খুনিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা বলছেন, মানবাধিকারের কথা বলছেন, তাঁরা ন্যায়বিচারের মানদণ্ড তুলে ধরতে গিয়ে এই ট্রাইব্যুনালের সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উপস্থাপন করার চেষ্টা করছেন। এই ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়াকে একটি প্রশ্নবোধক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাহলে কি ৩৬ দিনে যে এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হলেন, তাঁরা কি ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন না? যাঁরা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাঁরা কি ন্যায়বিচার পাবেন না? রাষ্ট্র কি ন্যায়বিচার পাবে না?’

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘দিবালোকের মতো সত্য যে এখানে মানুষ মারা গেছে। প্রায় গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। এখানে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। কারা ঘটিয়েছে, কিভাবে ঘটিয়েছে, আমরা সেটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। সেই জায়গা থেকে আমরা মনে করি, যদি এই আদালতে এই আসামিদের শাস্তি না হয়, মার্টিন লুথার কিংয়ের ভাষায় বলব, এ দেশের খুন হওয়া মানুষ, পঙ্গুত্ব বরণকারী মানুষ, এই রাষ্ট্রব্যবস্থা অবিচারের শিকার হবে।’

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করেছিলাম, উনি বিচারের সামনে আসবেন। উনার যদি সাহস থাকত তাহলে উনি বাংলাদেশের মাটিতে এসে এই বিচারের মুখোমুখি হতেন।’

আসামিদের বিচার না হলে অসংখ্য-অগণিত মানুষের জীবন বিপন্ন হবে

ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচার যত কঠিনই হোক, যত বাধা আসুক, সব বাধার প্রাচীর ভেঙে যদি বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না হয়, তাহলে আমরা জতি হিসেবে আগামী দিনে এগোতে পারব না। যদি এই আসামিদের বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে এই আসামিদের হাতে বাংলাদেশের অসংখ্য অগণিত মানুষের জীবন বিপন্ন হবে। এই আসামিদের হাতে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাবে। পাঁচ বছরের শিশু মারা যাবে। ১০ বছরের আনাস মারা যাবে। পানি বিতরণ করা অবস্থায় মুগ্ধ মারা যাবে। বুক চিতিয়ে রাজপথে দাঁড়িয়ে আবার আবু সাঈদ মারা যাবে। আমরা যদি বিচার শেষ করতে না পারি, এই দুজনের যদি শাস্তি না হয়, বাংলাদেশের মানুষ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়, একটি ভীরু কাপুরুষের উপমা হয়ে রয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনা একটা গৃহযুদ্ধ লাগানোর চেষ্টা করেছেন : চিফ প্রসিকিউটর

এরপর পাল্টা যুক্তিতর্ক তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যে সাক্ষ্য-প্রমাণ এই মামলায় উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই প্রমাণ হিমালয়ের মতো দৃঢ়, কাচের মতো স্বচ্ছ। এগুলো নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ তোলার অবকাশ নেই।’

চিফ প্রসিকিউটর আরো বলেন, ‘এ রকম নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ, পুরো প্রজন্মকে হত্যা করে ফেলার চেষ্টা, ৩৫ হাজার মানুষকে আহত করা, অঙ্গহানি করা, এর পরও সামান্যতম রিমোর্স (অনুশোচনা) না থাকা। এখানে শিশু ছিল, নারী ছিল, মজুর ছিল, ছাত্ররা ছিল, তাদের হত্যা করতে তাঁর বুক কাঁপেনি। এখন পর্যন্ত তাঁর মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। সুতরাং সর্বোচ্চ শাস্তিটা তাঁর অবশ্যই প্রাপ্য।’

শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রাষ্ট্রের মধ্যে শেখ হাসিনা একটা সিভিল ওয়ার (গৃহযুদ্ধ) লাগানোর চেষ্টা করেছেন। সেনাবাহিনীকে বলার চেষ্টা করেছেন, তোমাদের অফিসারদের বিচার হয়, তোমরা কেন রুখে দাঁড়াচ্ছ না? সেনাবাহিনী এবং জনগণকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও জনগণ সেই পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। যাঁরা পারপিট্রেইটর (অপরাধী) ছিলেন, তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য তাদের অঙ্গীকারের প্রতি দৃঢ় আছে। আদালতে তাঁদের নিয়ে এসেছে। বিচারের প্রক্রিয়া স্মুথলি পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো উসকানিতে কেউ পা দেয়নি।’

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য শেষ হলে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে বিচারটা শেষ করতে হবে। এই বিচার হবে খুবই সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ এবং সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে। যদিও কোনো কোনো পক্ষ বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। তবে কে কী বলল এটা কোনো বিষয় না। আমি বলতে চাই, যেকোনো মূল্যে বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং সে বিচার হবে নিরপেক্ষ, পক্ষপাতহীন।’

এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতনের নির্দেশনার দায়সহ হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ব্যাপক মাত্রায় পদ্ধতিগত হত্যা, প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা, সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অমানবিক আচরণ, সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ না করার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com