মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পলাতক আসামি প্রার্থী নয়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
  • জোটের প্রার্থী হলেও ভোটে লড়তে হবে নিজ দলের প্রতীকে
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী) দায়িত্ব পালন করবে। ফলে এই তিন বাহিনীর সদস্যরাও গ্রেপ্তারের ক্ষমতাসহ পুলিশের মতো ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তাঁদের নির্বাচনী দায়িত্ব দিতে আলাদা কোনো আদেশের প্রয়োজন হবে না। এই বিধান যুক্ত করে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধিত খসড়া অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।এতে নির্বাচনী জোট হলেও প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করা, মামলায় পলাতকদের  নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারাসহ বেশ কিছু বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে ঢাকার তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের  বৈঠক হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার  প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

অনুমোদন দেওয়া সংশোধিত আরপিওর নানা দিক তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর যে সংজ্ঞা, সেখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সম্পর্কিত যেসব বিধান ছিল তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচন করতে পারবেন না, এটিও যুক্ত করা হয়েছে। যদি নির্বাচনী জোট হয়, তাহলে জোটের অংশ হলেও দলের যে প্রতীক তা দিয়ে নির্বাচন করতে হবে, যাতে ভোটাররা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন প্রার্থী কোন দলের।প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন গত ১১ আগস্ট আরপিও সংশোধনের জন্য যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করে তাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ছিল।

আরপিওর ৮৭ অনুচ্ছেদে এই বিধান যুক্ত করা হয় যে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা-ই থাকুক না কেন, নির্বাচনসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকালে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য একজন পুলিশ কর্মকর্তা না হয়েও নির্বাচনী অপরাধের জন্য কাউকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারবেন। ২০০১ সালে এই বিধান অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরপিওতে যুক্ত করা হয়। শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচনেই নয়, পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইনগুলোতেও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সরকার ওই সংশোধনী অধ্যাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞা থেকে প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগ বাদ দেয়। এর ফলে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ডের যে ক্ষমতা তা সশস্ত্র বাহিনীর থাকে না।এদিকে পলাতক আসামিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাবটি ছিল মূলত নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের। নির্বাচন কমিশন প্রথমে এই প্রস্তাবের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়েছিল। গত মার্চে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে লিখিতভাবে ইসি বলেছিল, এমন বিধান অসদুদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে, এটি নিয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের  প্রয়োজন রয়েছে।

কিন্তু পরে  ইসি এই প্রস্তাব গ্রহণ করে। এ বিষয়ে  নির্বাচন কমিশনার  আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করেছে। আলোচনায় উভয় কমিশন সন্তুষ্ট হয়েছে এবং মনে করেছে এমন বিধান রাখা ভালো হবে।  এ বিষয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ছিল, আরপিও’র ১২ ধারায় কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারী আসামী হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।

আরপিও সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে গতকাল আইন উপদেষ্টা আরো জানান, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সম্পর্কিত বিধান বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে তাঁদের দেশি ও বিদেশি আয়ের উৎস, সম্পত্তির বিবরণ এবং আর্থিক তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ তা জানতে পারে।

ড. আসিফ নজরুল জানান, প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন করে ‘না ভোট’ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি কোনো আসনে একজন প্রার্থী থাকেন, ভোটাররা চাইলে ‘না ভোট’ দিতে পারবেন। যদি ‘না ভোট’ বেশি হয়, তাহলে সেই আসনে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে ২০১৪ সালের মতো বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা আর না ঘটে। এ ছাড়া পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে, নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। গণমাধ্যমের কর্মীরা এখন থেকে ভোট গণনার স্থানে উপস্থিত থাকতে পারবেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ করবে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক দলকে ৫০ হাজার টাকার বেশি দান, অনুদান বা চাঁদা দিতে হলে তা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দিতে হবে। দাতা ব্যক্তিকে তাঁর আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। আগে নির্বাচন কমিশন শুধু কোনো একটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে সেই কেন্দ্রের ফল বাতিল করতে পারত। এখন থেকে কমিশন মনে করলে পুরো নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম হয়েছে, তাহলে তারা সম্পূর্ণ এলাকার নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা পাবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com