মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দৃষ্টিহীনরা আবার দেখতে পাচ্ছেন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সায়েন্স করপোরেশনের তৈরি ‘প্রাইমা’ ইমপ্লান্ট নিয়ে ইউরোপের পাঁচটি দেশে ৩৮ জন রোগীর ওপর চালানো গবেষণা নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, ৩২ জন রোগীর চোখে ইমপ্লান্ট বসানোর পর ২৭ জন আবার কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি দিয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছেন। এক বছর পর তাঁদের দৃষ্টিশক্তি গড়ে ২৫টি অক্ষর বা পাঁচ লাইনের উন্নতি হয়েছে। লন্ডনের মুরফিল্ডস আই হাসপাতালে পাঁচজন রোগীর চোখে এই মাইক্রোচিপ প্রতিস্থাপনকারী সার্জন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এই ট্রায়ালের ফলাফল ‘অবিশ্বাস্য’।অন্ধ হিসেবে আইনত নিবন্ধিত ৭০ বছর বয়সী শীলা আরভিন বিবিসিকে বলেন, ‘আবার পড়তে পারা এবং ক্রসওয়ার্ড করতে পারা স্বর্গীয় অনুভূতি। এটি দারুণ, অসাধারণ। এতে আমি অনেক আনন্দ পাই।’

এই প্রযুক্তি ড্রাই এজ-রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের (এএমডি) একটি উন্নত পর্যায়ের ধরন ‘জিওগ্রাফিক অ্যাট্রোফি’ (জিএ)-তে আক্রান্ত মানুষের জন্য নতুন আশার দুয়ার খুলে দিয়েছে।যুক্তরাজ্যে প্রায় আড়াই লাখ এবং বিশ্বজুড়ে পাঁচ মিলিয়ন মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই প্রবীণ। আক্রান্তদের চোখের পেছনের রেটিনার একটি ক্ষুদ্র অংশের কোষ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মারা যায়, ফলে কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা ও বিকৃত হয়ে যায়। এতে রং ও সূক্ষ্ম বিস্তারিত দেখা সম্ভব হয় না।

শীলা জানান, তিনি প্রতিদিন তাঁর বাকি সব কাজ তাড়াহুড়া করে শেষ করেন, বিশেষ চশমা পরে সময় কাটানোর জন্য। তবে তিন বছর আগে ইমপ্লান্ট বসানোর পর থেকে তাঁর উন্নতি নিয়ে তিনি এবং চিকিৎসকদল অত্যন্ত আনন্দিত। শীলা বলেন, ‘আমি এখন আমার চিঠিপত্র ও বই পড়তে পারি। এমনকি ক্রসওয়ার্ড আর সুডোকুও করতে পারি।’

আবার কখনো পড়তে পারবেন বলে ভেবেছিলেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে শীলা বলেন, ‘একদম আশা করিনি!’ তিনি বলেন, ‘এটি অসাধারণ অনুভূতি।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রযুক্তি এত দ্রুত এগোচ্ছে! দারুণ ব্যাপার যে আমি এর অংশ হতে পারছি।’ সাধারণত বাইরে যাওয়ার সময় শীলা যন্ত্রটি পরেন না। এটি ব্যবহারে তাঁকে অনেক মনোযোগ দিতে হয়, পড়ার সময় মাথা একদম স্থির রাখতে হয়। এ ছাড়া তিনি যন্ত্রটির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে চান না। তিনি বলেন, প্রতিদিন ঘরের কাজগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করে তিনি বসে যান এবং বিশেষ চশমাটি পরেন।

উল্লেখ্য, প্রাইমা ইমপ্লান্টটি এখনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয়, তাই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে এটি পাওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে এর দাম কত হতে পারে, তাও এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মাহি মোকিত আশা প্রকাশ করেছেন, এটি ‘কয়েক বছরের মধ্যেই এনএইচএসের মাধ্যমে কিছু রোগীর কাজে আসতে পারে।’ এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে অন্যান্য চোখের রোগেও ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ম্যাকুলার সোসাইটির গবেষণা পরিচালক ডা. পিটার ব্লুমফিল্ড এই ফলাফলকে ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ এবং এমন রোগীদের জন্য ‘অসাধারণ খবর’ বলে উল্লেখ করেছেন, যাদের জন্য বর্তমানে কোনো চিকিৎসা নেই।তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম দৃষ্টিশক্তি অনেকের জন্য আশার আলো হতে পারে, বিশেষ করে ড্রাই এএমডি চিকিৎসায় আগের হতাশার পর। আমরা এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, প্রাইমা ইমপ্লান্টটি যুক্তরাজ্যে অনুমোদন পায় কি না এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, এটি এনএইচএসের মাধ্যমে রোগীদের দেওয়া সম্ভব কি না।’

তবে এই ট্রায়ালগুলো সেসব রোগীর ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না, যাঁদের অপটিক নার্ভ, যেটি রেটিনা থেকে মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠায়, কাজ করছে না। সূত্র : বিবিসি

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com