মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

চট্টগ্রাম ইপিজেডের আট তলা ভবনটি ধ্বংসস্তূপ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) ভয়াবহ আগুনে জ্বলে পুড়ে ভেঙে অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইলস লিমিটেডের কারখানার পুরো ভবন দৃশ্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আটতলা ভবনের একাধিক ছাদ ধসে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পয়েন্টে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। আগুন লাগার দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই বিশাল এই কারখানা ভবনের ভেতরে সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস বলছে, ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও ইপিজেড কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শুক্রবার সকালে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।কারখানার নেই অগ্নিনিরাপত্তা সনদ : গতকাল সকালে ঘটনাস্থল ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, অগ্নিনিরাপত্তা সনদ পেতে প্রতিষ্ঠানটি আবেদন করেছে কেবল। নিয়ম অনুযায়ী এখনো পরিদর্শন করা হয়নি। তার আগেই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, ভবনটি বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত হতো। চারটি ফ্লোরে ছিল গুদাম। ডাক্তারদের গাউন তৈরি হতো। দাহ্য পদার্থ পুড়তে সময় লেগেছে। ভবনটি দুই দিকে খোলা। পাশের ভবন ছিল খুবই কাছে। তাই আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। ভবনটি কোড মেনে তৈরি করা হয়নি। তাই ফায়ার ফাইটাররা জায়গামতো পৌঁছাতে পারেননি।ইপিজেডের সব ভবন দ্রুত কমপ্লায়েন্স ভবনে রূপান্তর করে কার্যকারিতা সনদ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড শুধু কারখানা মালিকের নয়, দেশের জন্য ক্ষতি। সিজন খারাপ। দ্রুত আগুন লাগতে পারে। সবাইকে প্রশিক্ষণের আওতায় নিয়ে আসুন।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি : ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ১৫ কার্যদিবসে মধ্যে এই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। তখন আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যাবে।

শ্রমিকরা যেভাবে রক্ষা পেলেন : গত বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিক্যাল কম্পানির গুদামে আগুন লাগে। অ্যাডামস তোয়ালে, ক্যাপ এবং জিহং মেডিক্যাল সার্জিক্যাল গাউন তৈরির কারখানা। দুটি কারখানার গুদামই সাততলায়। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত। ওই সময় বিরতি থাকায় অনেকে নিচে নেমেছিলেন। এদিকে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বাজার শব্দ শুনে কারখানার নিচের ফ্লোরগুলোতে থাকা শ্রমিক-কর্মচারীরা দ্রুত নামতে শুরু করেন। আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই সবাই নিরাপদে নিচে নেমে আসতে পেরেছেন। আগুন প্রথমে ওপরের তলায় লাগার কারণে শ্রমিকরা দ্রুত এবং নিরাপদে বের হতে পেরেছেন।

রোবটিক ইকুইপমেন্টের ব্যবহার : আগুনের ভয়াবহতায় ব্যবহার করা হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের রোবটিক ইকুইপমেন্টও। অতি দাহ্য পদার্থ থাকায় বেগ পেতে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের। এক পর্যায়ে রোবটিক ইকুপমেন্ট যুক্ত করা হয় কারখানার আগুন নির্বাপণে।

নিয়ম না মেনেই চার ফ্লোরে পণ্য গুদামজাত : ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, নীতিমালা না মেনে ভবনটির চারটি ফ্লোরে পণ্য গুদামজাত করা হয়েছিল, যেসব পণ্য পুড়ে রাসায়নিকে পরিণত হয়। এ কারণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রথম তিন তলা অ্যাডামস ক্যাপসের। পরের চারটি ফ্লোর ছিল স্টোর। স্টোরের যে প্রিন্সিপাল তা রক্ষা করা হয়নি। এখানকার প্রোডাক্টগুলো পুড়ে আরেকটি রাসায়নিক এজেন্টে পরিণত হয়েছে। সেখানে ডাক্তারদের অ্যাপ্রন, মেডিক্যাল গাউনসহ অনেক কিছু ছিল। এটি রাসায়নিক কারণে পুড়েছে অনেকক্ষণ ধরে।

সিইপিজেডের তদন্ত কমিটি : সিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক আবদুস সোবহান জানান, বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ফায়ার কনসালট্যান্টের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দেবে।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com