এ ছাড়া চাকসুতে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন—খেলাধুলা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোহাম্মদ শাওন; সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম ওরফে হারেস মাতাব্বর; সহসাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক জিহাদ হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, সহদপ্তর সম্পাদক জান্নাতুল আদন নুসরাত, ছাত্রী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক নাহিমা আক্তার দ্বীপা, সহছাত্রী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা, বিজ্ঞান ও তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন, সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক তাহসিনা রহমান, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আফনান হাসান ইমরান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান, যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঞা, সহযোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ওবাইদুল সালমান, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ, পাঠাগার ও ক্যাফেটোরিয়াবিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ। এ ছাড়া নির্বাহী সদস্য হলেন—জান্নাতুল ফেরদাউস সানজিদা, আদনান শরীফ, আকাশ দাশ, সালমান ফারসী ও সোহানুর রহমান।
৪৪ বছর পর চাকসুতে ফিরেছে শিবির
চাকসু নির্বাচনে শিবির সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৮১ সালে। ওই নির্বাচনে ভিপি হন জসিম উদ্দিন সরকার, আর জিএস হন আবদুল গাফফার। দুজনই ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন নেতা। এরপর ১৯৯০ সালের নির্বাচনে ‘সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য’র কাছে হেরে যান তাঁরা। দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবারও শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা চাকসুর নেতৃত্বে ফিরলেন।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির বেশ সুসংগঠিত। আওয়ামী লীগ সরকারের চাপের মুখেও তারা সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। এ ছাড়া জুলাই-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে ক্যাম্পাসে বেশ কিছু অনুষ্ঠান করেছে। ৫ আগস্টের পর ছাত্রশিবির চাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। তখন অন্য কোনো সংগঠন বা শিক্ষার্থী সেটা ভাবেনওনি। আবার চবিতে শিবিরের বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে। এসব ভোটারের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদেরও ভোট পেয়েছে শিবির। অন্যদিকে ছাত্রদলসহ আরো ১২টি প্যানেল থাকায় তাদের ভোট ভাগ হয়ে গেছে।
নিজেদের জয়লাভের বিষয়ে চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলাম, তাঁদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ করেছি। আপনারা জানেন, আমরা এই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বহু কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। প্রচারণার সময়ও আমরা সব শিক্ষার্থীর কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। তাঁদের কথা শুনে আমাদের ইশতেহার সাজিয়েছি। শিক্ষার্থীরা আমাদের চিনেছেন, ভালোবেসেছেন, তাঁদের মধ্যে আমাদের সম্পর্কে যে ভুল ধারণা ছিল, তা ভাঙতেই আমাদের বিজয় এসেছে। আর আমরা যে ইশতেহার দিয়েছি তা বাস্তবায়ন হলেই আমাদের এই বিজয় পূর্ণতা পাবে।’
ছাত্রদলের পরাজয়ের কারণ
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে বিরোধ, অনেক জনপ্রিয় ছাত্রদল নেতাকর্মীকে চাকসু নির্বাচনে প্রার্থী না করা, দলের প্যানেলের বাইরে গিয়ে এক নেতার কয়েকজন অনুসারীর প্রার্থী হওয়া, নির্বাচনের দুই দিন আগে চবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ মামুন আর রশিদকে আজীবন বহিষ্কার করা এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান কম করাকে ছাত্রদলের পরাজয়ের কারণ বলছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৩ সালের (১১ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মহসিন সভাপতি ও আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এ ছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে মামুনুর রশিদ মামুন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দুই বছরের জন্য কমিটির অনুমোদন দেয় ছাত্রদল। এরই মধ্যে দুই মাস আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ছাত্রদলের কর্মীদের অভিযোগ, পাঁচজনের কমিটি ঘোষণা করা হলেও নেতাদের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে। এরপর ছাত্রদল চাকসুতে প্যানেল ঘোষণা করলেও এর বাইরে গিয়ে কয়েকজন কর্মী প্রার্থী হয়েছেন। তাঁদের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন প্রার্থী করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে ছাত্রদল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয় চাকসু নির্বাচনের দুই দিন আগে। এসব বিষয় চাকসু নির্বাচনে প্রভাব ফেলে ছাত্রদলের ভোটে।
চাকসু নির্বাচনের পর গতকাল এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রদল সভাপতি মো. আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ‘স্নেহ, ভালোবাসা আর আন্তরিকতা দিয়েও যে জয় পাওয়া যায় তার জীবন্ত প্রমাণ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আমার সংগঠন চবি ছাত্রদল জুলাই-পরবর্তী সময় যতটুকু পাশে থাকার কথা ছিল, স্বীকার করছি তা ছিল থাকার তুলনায় অনেক কম।’
চাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত এজিএস পদে বিজয়ী আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, ‘আমার প্যানেল থেকে আমি নির্বাচিত হয়েছি। এই নির্বাচিত হওয়ার পেছনে আমাদের শিক্ষার্থীদের সমর্থন ও ভালোবাসা ছিল। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম, হৃদয় চন্দ্রসহ যারা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের রক্তের বিনিময়ে আমরা আজ ছাত্রসংসদ চালু করতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের কথা দিয়েছিলাম, নির্বাচিত হলে দল-মত-নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের অধিকারের জন্য কাজ করব। এখনো সেটাই বলছি।’