মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

গণভোটের জন্য অধ্যাদেশ জারির পরিকল্পনা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে
দুই বিকল্প সময় প্রস্তাব করবে কমিশন

  • সরকার নির্বাচন কমিশনের সুবিধা অনুসারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে
  • ব্যালটে থাকতে পারে তিনটি প্রশ্ন
  • ১৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হবে জুলাই জাতীয় সনদ
  • এখনো সনদ স্বাক্ষরে দলীয় প্রতিনিধির নাম দেয়নি এক-চতুর্থাংশ দল

রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করে তা প্রস্তাব আকারে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পাঠাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদ বাস্তবায়নে কমিশন গণভোটের সুপারিশ করলেও সময় ও প্রক্রিয়া নিয়ে দুই ধরনের প্রস্তাব থাকছে।  জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট—এই দুটি প্রস্তাবই থাকতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশনের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় গণভোট অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করবে।

ঐকমত্য কমিশন সূত্র আরো জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সুপারিশ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বৈঠক করেছে কমিশন। সেখানে গণভোট কিভাবে হবে, তা নিয়ে একাধিক প্রস্তাব থাকলেও অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে গণভোটের আগে এর পক্ষে অধ্যাদেশ জারির সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হলেও গণভোট কখন ও কিভাবে হবে তা নিয়ে মতভিন্নতা রয়েছে। তারা এ বিষয়ে কমিশনকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দিয়েছে। কমিশন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, এই দুটি প্রস্তাবকেই গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তিনি আরো বলেন, গণভোটের আইনি ভিত্তি নিয়েও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। কমিশন সদস্যরা এ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর এসংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষ করেছে ঐকমত্য কমিশন। গত বুধবার রাতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া নিয়ে ঐকমত্য ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক শেষে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সমাপ্তি হলেও এ বিষয়ে কমিশনের আরো কিছু কাজ রয়েছে। গণভোটের আগে অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ছাড়াও গণভোটে কয়টি প্রশ্ন থাকবে, তা ঠিক করতে হবে। ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকা বিষয়গুলো কিভাবে উত্থাপন করা হবে, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এসব কাজ শেষ করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে, যা সরকারকে দেওয়া হবে এবং দলগুলোর কাছেও পাঠানো হবে। এরপর ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ নামক ঐতিহাসিক দলিলের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ অক্টোবর ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষরিত হবে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত ঐতিহাসিক এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। জাতীয় সংসদ ভবনস্থ জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কার্যালয়ের সভাকক্ষে কমিশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে ওই সভায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের বৈঠকে প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয়, বিশেষজ্ঞগণ ও রাজনৈতিক দলসমূহ থেকে প্রাপ্ত অভিমতসমূহ বিশ্লেষণ করে খুব শিগগির বাস্তবায়নের উপায়সংক্রান্ত সুপারিশসহ চূড়ান্ত জুলাই সনদ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সংলাপে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটের সময় ও বিষয়বস্তু নিয়ে ভিন্নমত তুলে ধরে। বিক্ষিপ্ত আলোচনায় অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে কমিশন ও সরকারকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহবান জানায়। তারই আলোকে ‘জুলাই সনদ আদেশ’ নামে অধ্যাদেশ জারির প্রস্তাব করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুটি সময় আলোচনায় থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে পৃথক ব্যালটে গণভোটের প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবের পক্ষে রয়েছে বিএনপি, এবি পার্টি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাসদ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। ঐকমত্য কমিশনের এই প্রস্তাবের পক্ষে আগে একমত হলেও সর্বশেষ বৈঠকে অবস্থান বদল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আর জামায়াতে ইসলামী আগামী নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বরের শুরুত গণভোটের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, নতুন করে পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কারণ সংরক্ষিত নারী আসনের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর নিম্নকক্ষের আসনের ভিত্তিতে উচ্চকক্ষ গঠন হলে তা বিশেষ কোনো সুফল বয়ে আনবে না; বরং তা রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হয়ে দেখা দিতে পারে। তাই পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে গণভোটে পৃথক প্রশ্ন রাখা হতে পারে। অবশ্য এ বিষয়ে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। জুলাই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত ৯টি প্রস্তাবে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে বিএনপি। যার মধ্যে উচ্চকক্ষ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে না থাকা, দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রয়েছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com