দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন নিয়েও কথা বলেন।
বিচার চলাকালে আইন সংশোধন, এটা কি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে? এমন আরেক প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো সুযোগ নেই। কারণ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারপ্রক্রিয়া চলমান নেই। বিচার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় যদি কোনো আইন সংশোধন করা হয়, যেমন ধরেন, একজন ব্যক্তির বিচারপ্রক্রিয়া চলমান আছে, সেই ব্যক্তির বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো সংশোধন হলে তখন আপনি প্রশ্ন তুলতে পারেন। এখানে যে সংশোধন করা হয়েছে, সেটি এখনো প্রয়োগযোগ্য করা হয়নি।’
আরেক সাংবাদিক জানতে চান, গত বছর ১৪ জুলাই গণভবনে যে মিটিং হয়েছিল, সেখানে আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী দলগুলোও ছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন (সংশোধিত), ১৯৭৩-এর ২০ (খ) ধারায় সংগঠনের শাস্তির বিধান আছে। শুধু তা-ই নয়, এই উপধারাটিকে বিদ্যমান অন্য আইন থেকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কোনো দল বা সংগঠনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রমাণ হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই দল বা সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে পারবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট দল-সংগঠনের নিবন্ধন বাতিল, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো শাস্তি আরোপ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ট্রাইব্যুনালকে।
ট্রাইব্যুনালে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ দাখিল হলেই নির্বাচন ও সরকারি চাকরিতে অযোগ্য
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ আবারও সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত সোমবার (৬ অক্টোবর) তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়। ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অযোগ্যতা’ শিরোনামে আইনটির ২০ ধারায় নতুন (গ) উপধারা যুক্ত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ দাখিল হলে সেই ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। শুধু তা-ই নয়, নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে যদি মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়, তবে সেই ব্যক্তি সংসদ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারাবেন।
এতে আরো বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে সেই ব্যক্তি স্থানীয় সরকার সংস্থার কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক নির্বাচিত বা নিযুক্ত হতে বা সদস্য হতে যোগ্য নন। এমনকি সেই ব্যক্তি প্রজাতন্ত্রের (সরকারি) চাকরি বা সরকারি কোনো পদে নিয়োগের যোগ্যতাও হারাবেন।
গত বছর ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কয়েক দফা পরিবর্তন আনে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছর ২৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে প্রথম সংশোধনী আনা হয়। এরপর চলতি বছর ১০ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংশোধনী আনার পর ১০ মে ফের সংশোধনী এনে অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর চতুর্থবারের মতো সংশোধনী আনা হলো।